ধরুন আপনার হাতে এমন টাকা আছে যা দিয়ে টোকিওতে একটা মাঝারি মানের ফ্ল্যাট কেনা যায়। এখন প্রশ্ন হলো, সেই একই টাকা দিয়ে যদি থাইল্যান্ডের ফুকেটে দুই-তিনটা সমুদ্রমুখী কনডোমিনিয়াম কেনা যায় এবং প্রতিটা থেকে টোকিওর চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আয় আসে, তাহলে সিদ্ধান্তটা কঠিন হওয়ার কথা নয়। ঠিক এই হিসাবই এখন এশিয়াজুড়ে সম্পত্তি বিনিয়োগকারীদের মাথায় ঘুরছে।
সরাসরি উত্তর
নিক্কেই এশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে গ্রেটার টোকিও অঞ্চলে গড় কনডোমিনিয়াম দাম ১০ কোটি ইয়েন (প্রায় ৬,৪০,০০০ ডলার) ছাড়িয়ে গেছে, যা সর্বকালের রেকর্ড। এই একই বাজেটে ফুকেটে সমুদ্রমুখী কনডোমিনিয়াম কেনা যায় ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ থাই বাত (১,৪০,০০০-৪,২০,০০০ ডলার) দামে, আর এখানে বার্ষিক ভাড়া আয় (রেন্টাল ইয়েল্ড) মেলে ৬-৮%, যেখানে টোকিওতে তা মাত্র ২-৩%।
কেন টোকিওর দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে
জাপানের আবাসন বাজার এতটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে যে দেশীয় ক্রেতারাও এখন পিছিয়ে যাচ্ছেন, আর এই পুঁজি এখন এশিয়ার বিকল্প বাজারের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। মূল কারণ নির্মাণ খরচ। জাপানে গত তিন বছরে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে আনুমানিক ২০-২৫%, ইস্পাত, কংক্রিট আর শ্রমিক মজুরি সবই ঐতিহাসিক উচ্চতায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দুর্বল ইয়েন (ডলারের বিপরীতে ১৫৫-১৬০ ইয়েনের কাছাকাছি), যা স্থানীয় মুদ্রায় সম্পত্তিকে ব্যয়বহুল করে তুললেও ডলার-ধারীদের জন্য তুলনামূলক সস্তা করে দিচ্ছে এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের বিদেশমুখী করছে।
থাইল্যান্ডে নির্মাণ খরচ বাড়ছে ধীরগতিতে, একই সময়ে মাত্র ৮-১২%, যা চূড়ান্ত সম্পত্তির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখছে।
দামের তুলনা: টোকিও বনাম ফুকেট
| বিষয় | টোকিও | ফুকেট |
|---|---|---|
| গড় দাম | ১০ কোটি ইয়েন (~৬,৪০,০০০ ডলার) | ৫০ লাখ-১.৫ কোটি বাত ($১,৪০,০০০-৪,২০,০০০) |
| প্রতি বর্গমিটার দাম | $১২,০০০-১৮,০০০ | $৩,০০০-৬,০০০ |
| বার্ষিক ভাড়া আয় | ২-৩% | ৬-৮% |
| স্টুডিওর শুরুর দাম | তুলনামূলক অনেক বেশি | ~$১,০০,০০০ থেকে শুরু |
একই বাজেটে ফুকেটে ২ থেকে ৪টি প্রিমিয়াম সমুদ্রমুখী কনডোমিনিয়াম কেনা সম্ভব, যা পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যের জন্য বড় সুবিধা।
শুধু জাপানিরাই নন, মধ্যপ্রাচ্যও আগ্রহী
ব্যাংকক পোস্টের তথ্যমতে, এই প্রবণতা কেবল জাপানি ক্রেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হংকং, সিঙ্গাপুর এবং ক্রমবর্ধমানভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগকারীরাও ফুকেটকে টার্গেট করছেন লাইফস্টাইল আকর্ষণ ও পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যের কারণে। ৫ কোটি বাতের ওপরের আল্ট্রা-প্রিমিয়াম ভিলা ও কনডোর চাহিদা এখনও চাঙ্গা, যদিও সামগ্রিক পর্যটন খাত কিছুটা নরম হয়েছে।
২০২৫ সালে ফুকেটে রেকর্ড ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটক এসেছেন, যা সরাসরি ভাড়ার অকুপেন্সি রেটকে সমর্থন করছে। বাং তাও, লেগুনা ও কাটা এলাকা এখনও এশীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়, উন্নত অবকাঠামো ও শক্তিশালী অকুপেন্সির কারণে। নেশন থাইল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাং তাওয়ে বর্তমানে কনডোর গড় দাম প্রতি বর্গমিটার প্রায় ২,৮৩,৯৭৫ বাত, যা ব্যাংককের প্রাইম এলাকার দামের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
ফুকেটের অনেক প্রকল্পে ৩-৫ বছরের জন্য ৫-৭% গ্যারান্টিড রেন্টাল ইল্ড প্রোগ্রামও পাওয়া যায়, যা ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত থাকে।
বিদেশি হিসেবে মালিকানার নিয়ম
ফুকেটের ফ্রিহোল্ড কনডোমিনিয়াম বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত, প্রতিটি প্রকল্পে ৪৯% বিদেশি মালিকানা কোটার আওতায়, যা সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত মালিকানা নিশ্চিত করে। জাপানি নাগরিক সহ যেকোনো বিদেশি নাগরিক এই কোটার মধ্যে থেকে কনডো কিনতে পারেন, তবে অর্থ অবশ্যই বিদেশ থেকে পাঠাতে হবে এবং থাই বাতে রূপান্তরিত হয়ে ব্যাংকের নিশ্চিতকরণ পত্র (কনফার্মেশন লেটার) দিয়ে যাচাই করাতে হবে।
ঝুঁকি ও করণীয়
অবিশ্বস্ত ডেভেলপার, নির্মাণে বিলম্ব এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এখানকার প্রধান ঝুঁকি। তাই স্বাধীন আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ ডিউ ডিলিজেন্স অপরিহার্য। অর্থ স্থানান্তরের সময় মুদ্রার ওঠানামার ঝুঁকিও হিসাবে রাখা উচিত।
টোকিওর ১০ কোটি ইয়েনের রেকর্ড কোনো সাময়িক ঘটনা নয়, এটাই এখন নতুন স্বাভাবিকতা। যিনি জাপানের বাইরে তাকাতে রাজি, তার জন্য ফুকেট একটি স্পষ্ট সুবিধা দিচ্ছে, দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া আয়, তাও অনেক কম প্রবেশমূল্যে। থাইল্যান্ড সম্পত্তি হিসেবে আমরা প্রতিদিন এই ধরনের তুলনামূলক হিসাব নিয়েই বাংলাভাষী ক্রেতাদের সহায়তা করি।
সূত্র: ব্যাংকক পোস্ট
