মূল বিষয়বস্তুতে যান
গাইড

থাইল্যান্ডে সম্পত্তি ট্রান্সফার ফি কমে ০.০১%: বাঁচবে ৩ লাখ বাথ পর্যন্ত

থাইল্যান্ডে সম্পত্তি ট্রান্সফার ফি কমে ০.০১%: বাঁচবে ৩ লাখ বাথ পর্যন্ত
Photo: ZhiCheng Zhang / Pexels
সংক্ষেপে

থাইল্যান্ড সরকার সম্পত্তি ট্রান্সফার ফি ও মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে মাত্র ০.০১% করেছে, যা ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ফুকেটে বিনিয়োগ করতে চাওয়া বাংলাদেশি ও ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।

ধরুন আপনি ফুকেটে একটি কন্ডোমিনিয়াম কিনছেন যার দাম ৫০ লাখ বাথ। এতদিন সরকারি ফি বাবদ যে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হতো, তার একটা বড় অংশ এখন আপনার পকেটেই থেকে যাবে। থাইল্যান্ড সরকার সম্পত্তি কেনাবেচার দুটি প্রধান খরচ, ট্রান্সফার ফি এবং মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন ফি, নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে, এবং এবার এই সুবিধা দীর্ঘমেয়াদী।

সংক্ষেপে মূল তথ্য

থাইল্যান্ডে সম্পত্তি নিবন্ধনের ট্রান্সফার ফি এখন ২% থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ০.০১%, আর মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন ফি ১% থেকে নেমে এসেছে ০.০১%-এ। এর ফলে ১ কোটি বাথ মূল্যের একটি কন্ডোমিনিয়ামে এই দুটি খাতেই প্রায় ৩ লাখ বাথ সাশ্রয় হবে। এই সুবিধা চলবে ৩০ জুন, ২০২৭ পর্যন্ত, যা আগের স্বল্পমেয়াদী ছাড়গুলোর তুলনায় অনেক বেশি নিশ্চয়তা দেয়।

কেন এই সিদ্ধান্ত নতুন কিছু নয়, তবু গুরুত্বপূর্ণ

থাইল্যান্ড সরকার ২০১৯ সাল থেকে মাঝেমধ্যেই এমন ফি ছাড় ঘোষণা করে আসছে, প্রতিবারই একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ ও মূল্যসীমা বেঁধে দিয়ে। কিন্তু ২০২৬ সংস্করণের বিশেষত্ব হলো এর ব্যাপ্তি। থাই মন্ত্রিসভা এবার ০.০১% ফি কাঠামো বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর রেখেছে, ফলে ক্রেতারা তাড়াহুড়ো না করে পরিকল্পনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পাচ্ছেন। যেসব বিদেশি বিনিয়োগকারী ফ্রিহোল্ড কোটার আওতায় কন্ডোমিনিয়াম কিনছেন, তারাও থাই নাগরিকদের মতোই একই হারে সুবিধা পাচ্ছেন।

কারা এই সুবিধা পাবেন এবং কোন সম্পত্তি এর আওতায়

এই কমানো হার প্রযোজ্য হবে সেসব আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে যার ক্রয়মূল্য ও সরকার নির্ধারিত মূল্যায়ন মূল্য উভয়ই ৭০ লাখ বাথের মধ্যে, এবং মর্টগেজের ক্ষেত্রেও প্রতি চুক্তিতে সীমা ৭০ লাখ বাথ। এর মধ্যে পড়ে:

  • একক বাড়ি (ডিটাচড হাউস)
  • টাউনহাউস
  • কন্ডোমিনিয়াম ইউনিট
  • ভবনসহ জমি

তবে আংশিক মালিকানা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়। থাই নাগরিক হোক বা বিদেশি, যে কেউ যোগ্য আবাসিক সম্পত্তি কিনলেই এই ছাড় পাবেন। বিদেশি ক্রেতাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য শুধু আইনি ফ্রিহোল্ড কোটার আওতাধীন কন্ডোমিনিয়াম কেনার ক্ষেত্রে।

বাস্তবে কত টাকা সাশ্রয় হবে

৫০ লাখ বাথ মূল্যের একটি ইউনিটে হিসাব করলে:

  • ট্রান্সফার ফি বাবদ সাশ্রয়: প্রায় ৯৯,৫০০ বাথ (২% বনাম ০.০১%)
  • মর্টগেজ ফি বাবদ সাশ্রয়: প্রায় ৪৯,৯৫০ বাথ (১% বনাম ০.০১%)
  • মোট সাশ্রয়: প্রায় ১,৪৯,৫০০ বাথ (আনুমানিক ৪,২০০ মার্কিন ডলার)

এই অঙ্কটা কোনো ছোট বিষয় নয়, বরং এটি বিনিয়োগের রিটার্নে বাড়তি এক শতাংশ পয়েন্টের মতো কাজ করে, যা সরকার কার্যত ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

এই ছাড়ের বাইরে কী কী খরচ এখনো বহাল আছে

থাইল্যান্ডে সাধারণত সম্পত্তি কেনাবেচায় যেসব খরচ থাকে তার মধ্যে আছে ট্রান্সফার ফি (২%), স্ট্যাম্প ডিউটি (০.৫%), স্পেসিফিক বিজনেস ট্যাক্স (মালিকানার প্রথম ৫ বছরের মধ্যে পুনর্বিক্রয়ে ৩.৩%), এবং প্রগ্রেসিভ স্কেলে হিসাব করা উইথহোল্ডিং ট্যাক্স। বর্তমান ছাড় শুধুমাত্র ট্রান্সফার ও মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন ফি-কে স্পর্শ করে, বাকি খরচগুলো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

থাইল্যান্ডের ডিপার্টমেন্ট অফ ল্যান্ডস হলো একমাত্র কর্তৃপক্ষ যারা মালিকানা হস্তান্তর নিবন্ধন করে। ফি হিসাব করা হয় সরকার নির্ধারিত মূল্যায়ন মূল্যের ভিত্তিতে, যা প্রকৃত ক্রয়মূল্যের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে, এই বিষয়টি বিদেশি ক্রেতাদের অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে অর্থনৈতিক হিসাব

থাইল্যান্ডের অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই বর্ধিত প্রকল্পটি বার্ষিক প্রায় ৫৪,০০০ কোটি বাথ সম্পত্তি লেনদেনকে সহায়তা করবে এবং এই খাতে আনুমানিক ৩০,৫০০ কোটি বাথ অতিরিক্ত বিনিয়োগ টেনে আনবে।

বিদেশি ক্রেতারা থাইল্যান্ডের কন্ডো বাজারে একটি বড় শক্তি হিসেবে থেকে যাচ্ছেন। শিল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ সালে বার্ষিক বিদেশি কন্ডো ক্রয় প্রায় ১৪,৫০০ ইউনিটে স্থিতিশীল ছিল, শুধু ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকেই যোগ হয়েছে প্রায় ৩,৯১৯ ইউনিট। ব্যাংকক, চনবুরি এবং ফুকেট এই চাহিদার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে।

ফুকেটের জন্য কেন এটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক

ফুকেট, পাতায়া এবং সামুই হলো সেই তিনটি গন্তব্য যেখানে কন্ডোমিনিয়াম কেনাকাটায় বিদেশি ক্রেতাদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ, এই ফি হ্রাসের বাস্তব প্রভাব বিনিয়োগ চাহিদার ওপর সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে এই জায়গাগুলোতেই। যারা ফুকেটে ছুটি কাটানোর জন্য বা ভাড়া আয়ের জন্য কন্ডো খুঁজছেন, তাদের জন্য এখনকার সময়টা বিশেষভাবে অনুকূল।

তবে মনে রাখা দরকার, বিদেশিদের জন্য জমি বা বাড়ির সরাসরি মালিকানা এখনো অত্যন্ত সীমিত। ফ্রিহোল্ড মালিকানা শুধুমাত্র প্রতিটি প্রকল্পের ৪৯% বিদেশি কোটার মধ্যে কন্ডোমিনিয়াম ইউনিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর জমিসহ সম্পত্তির ক্ষেত্রে সাধারণত লিজহোল্ড বা কোম্পানি কাঠামো ব্যবহার করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

এই ছাড় স্পেসিফিক বিজনেস ট্যাক্সকে (৩.৩%) স্পর্শ করে না, যা মালিকানার প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে পুনর্বিক্রয় করা সম্পত্তির ওপর এখনো প্রযোজ্য থাকবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

কারা এই কমানো ফি-এর জন্য যোগ্য?

থাই নাগরিক হোক বা বিদেশি, যে কেউ যোগ্য আবাসিক সম্পত্তি কিনলেই এই সুবিধা পাবেন। বিদেশি ক্রেতাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য শুধু আইনি বিদেশি মালিকানা কোটার আওতাধীন ফ্রিহোল্ড কন্ডোমিনিয়াম কেনার ক্ষেত্রে।

কোন কোন সম্পত্তি এর আওতায় পড়ে?

এই প্রকল্প প্রযোজ্য একক বাড়ি, টাউনহাউস, কন্ডোমিনিয়াম ইউনিট এবং ভবনসহ জমির ক্ষেত্রে, শর্ত থাকে যে ক্রয়মূল্য ও মূল্যায়ন মূল্য উভয়ই ৭০ লাখ বাথের বেশি না হয়। আংশিক মালিকানা বিক্রয় এই ছাড়ের বাইরে থাকবে।

বাস্তবে কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে?

৫০ লাখ বাথ মূল্যের একটি ইউনিটে ট্রান্সফার ফি বাবদ সাশ্রয় প্রায় ৯৯,৫০০ বাথ (২% বিয়োগ ০.০১%), আর মর্টগেজ ফি বাবদ সাশ্রয় প্রায় ৪৯,৯৫০ বাথ (১% বিয়োগ ০.০১%), সব মিলিয়ে মোট সাশ্রয় দাঁড়ায় প্রায় ১,৪৯,৫০০ বাথ

এটি কি রিসেল সম্পত্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?

হ্যাঁ, যোগ্য রিসেল লেনদেনের ক্ষেত্রেও এই কমানো হার প্রযোজ্য, তবে বিক্রেতাকে সম্পত্তি কতদিন ধরে রেখেছেন তার ওপর নির্ভর করে স্পেসিফিক বিজনেস ট্যাক্স বা স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হতে পারে।

এই ফি ছাড় কতদিন থাকবে?

বর্তমান সম্প্রসারণ চলবে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত, যা এই ধরনের আগের ছাড়গুলোর তুলনায় (যেগুলো সাধারণত কয়েক মাস থেকে এক বছর স্থায়ী হতো) অনেক দীর্ঘ একটি সময়সীমা।

ডেভেলপারের কিস্তি পরিকল্পনার সাথে কি এটি একসাথে কাজে লাগানো যায়?

হ্যাঁ। ডেভেলপারের পেমেন্ট প্ল্যান এবং সরকারি ফি হ্রাস দুটি স্বতন্ত্র বিষয়। ফি পরিশোধ করা হয় মালিকানা হস্তান্তর নিবন্ধনের সময়, যা সাধারণত শেষ কিস্তির পেমেন্টের সাথে মিলে যায়।

কোন খরচগুলো অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে?

স্পেসিফিক বিজনেস ট্যাক্স (মালিকানার প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে পুনর্বিক্রয়ে ৩.৩%), প্রগ্রেসিভ উইথহোল্ডিং ট্যাক্স, এবং আইনি বা ডিউ ডিলিজেন্স খরচ, এই প্রকল্পের কারণে কোনোটাই প্রভাবিত হয়নি।

কেনার সময় এই ছাড় এখনো বলবৎ আছে কিনা কীভাবে নিশ্চিত হবো?

বর্তমান অবস্থা থাইল্যান্ডের ডিপার্টমেন্ট অফ ল্যান্ডস প্রকাশ করে, এবং নিবন্ধন যেখানে হবে সেই স্থানীয় ল্যান্ড অফিসেও সরাসরি নিশ্চিত করা যায়।

শেষ কথা: এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়

একটি দীর্ঘমেয়াদী ফি ছাড়, যার একটি নির্দিষ্ত কিন্তু বেশ দূরবর্তী মেয়াদ আছে, বিনিয়োগকারীদের তাড়াহুড়ো না করে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করার সুযোগ দেয়। যারা ইতিমধ্যে কোনো সম্পত্তি খুঁজে পেয়েছেন এবং ডিউ ডিলিজেন্স সম্পন্ন করেছেন, তাদের জন্য ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিস্তৃত এই সময়টা এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুকূল। ১,৫০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ বাথ পর্যন্ত সাশ্রয় কার্যত বিনিয়োগের রিটার্নে বাড়তি এক শতাংশ পয়েন্টের মতো কাজ করে। তবে মনে রাখতে হবে, এটি শেষ পর্যন্ত একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা পরিবর্তিত হতে পারে, তাই দেরি না করে দ্রুত শর্তাবলী চূড়ান্ত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

থাইল্যান্ডে সম্পত্তি কেনার পরিকল্পনা করছেন? থাইল্যান্ড সম্পত্তি-র বিশেষজ্ঞ দল আপনাকে সঠিক সম্পত্তি খুঁজে পেতে এবং পুরো প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সাহায্য করতে প্রস্তুত।

সূত্র: দ্য নেশন থাইল্যান্ড

সাধারণ প্রশ্ন

থাইল্যান্ডে সম্পত্তি ট্রান্সফার ফি এখন কত?

ট্রান্সফার ফি ২% থেকে কমিয়ে ০.০১% করা হয়েছে, এবং মর্টগেজ রেজিস্ট্রেশন ফি ১% থেকে কমিয়ে ০.০১% করা হয়েছে। এই সুবিধা ৭০ লাখ বাথ পর্যন্ত মূল্যের আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

বাংলাদেশি বা ভারতীয় ক্রেতারা কি ফুকেটে এই ফি ছাড়ের সুবিধা পাবেন?

হ্যাঁ। ফ্রিহোল্ড কোটার আওতায় কন্ডোমিনিয়াম কেনা যেকোনো বিদেশি ক্রেতা থাই নাগরিকদের মতোই একই কমানো হারে ফি প্রদান করবেন, যতক্ষণ না সম্পত্তির মূল্য ও মূল্যায়ন মূল্য ৭০ লাখ বাথের মধ্যে থাকে।

৫০ লাখ বাথের কন্ডো কিনলে মোট কত টাকা সাশ্রয় হবে?

ট্রান্সফার ফি বাবদ প্রায় ৯৯,৫০০ বাথ এবং মর্টগেজ ফি বাবদ প্রায় ৪৯,৯৫০ বাথ, সব মিলিয়ে মোট সাশ্রয় দাঁড়ায় প্রায় ১,৪৯,৫০০ বাথ, যা প্রায় ৪,২০০ মার্কিন ডলারের সমান।

এই ফি ছাড়ের পরেও কোন খরচগুলো বহাল থাকবে?

স্পেসিফিক বিজনেস ট্যাক্স (মালিকানার প্রথম ৫ বছরের মধ্যে পুনর্বিক্রয়ে ৩.৩%), স্ট্যাম্প ডিউটি (০.৫%), প্রগ্রেসিভ উইথহোল্ডিং ট্যাক্স এবং আইনি বা ডিউ ডিলিজেন্স খরচ অপরিবর্তিত থাকবে।