মূল বিষয়বস্তুতে যান
← গাইড

ইন্দোনেশিয়ার ২৮০০ কোটি ডলারের ফিনান্সিয়াল হাব: থাইল্যান্ডে বিনিয়োগের জন্য কতটা ঝুঁকি?

এই তথ্যসমূহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও শর্তাবলী আমাদের পরামর্শদাতার সাথে যাচাই করে নিন।

বিষয়বস্তুর জন্য দায়ী: Leonid Ustinov, Aster Of Asia Co., Ltd.

ইন্দোনেশিয়ার ২৮০০ কোটি ডলারের ফিনান্সিয়াল হাব: থাইল্যান্ডে বিনিয়োগের জন্য কতটা ঝুঁকি?
Photo: Quang Nguyen Vinh / Pexels
সংক্ষেপে

জাকার্তা ও বালিতে ২৮০০ কোটি ডলারের ফিনান্সিয়াল হাব গড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কিন্তু আইনি অনিশ্চয়তার কারণে থাইল্যান্ডের প্রপার্টি মার্কেট আগামী ৩-৫ বছরে অনেক বেশি নিরাপদ থাকছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যারা ফুকেট বা ব্যাংককে ফ্ল্যাট কেনার কথা ভাবছেন, তাদের মনে সম্প্রতি একটা প্রশ্ন উঠতে পারে: ইন্দোনেশিয়া যদি সিঙ্গাপুর-হংকংয়ের মতো নিজস্ব ফিনান্সিয়াল হাব বানিয়ে ফেলে, তাহলে কি থাইল্যান্ডের প্রপার্টি মার্কেটের আকর্ষণ কমে যাবে? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, না, অন্তত আগামী কয়েক বছরে নয়। ইন্দোনেশিয়া জাকার্তা ও বালিতে ফিনান্সিয়াল সেন্টার গড়তে ২৮০০ কোটি (২৮ বিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, কিন্তু আইনি কাঠামোর অভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগবে অনেক বছর, যেখানে থাইল্যান্ডের সিস্টেম আজই কাজ করছে।

ঘটনাটা আসলে কী

নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া সরকার জাকার্তা ও বালিতে আন্তর্জাতিক ফিনান্সিয়াল সেন্টার তৈরির লক্ষ্যে ২৮ বিলিয়ন ডলার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। লক্ষ্য স্পষ্ট, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং ব্যাংককে যে বিদেশি পুঁজি এখন প্রবাহিত হয়, তার একটা অংশ নিজেদের দিকে টেনে আনা। বিজনেস টাইমসের খবরে জানা যায়, নতুন PFII ফিনান্সিয়াল-সেন্টার আইনের অধীনে ইন্দোনেশিয়া একটি কর ছাড়ের প্যাকেজ প্রস্তুত করছে, যাতে থাকতে পারে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ১০০% কর্পোরেট ইনকাম ট্যাক্স মওকুফ-এর মতো সুবিধা।

কিন্তু এখানেই আসল সমস্যা। বড় বিনিয়োগকারী ফান্ডগুলো ইন্দোনেশিয়ার কাছে যে জিনিসটা চাইছে, তা হলো আইনি নিশ্চয়তা, যা এখনও দেওয়া হয়নি। আর ঠিক এই জায়গাতেই থাইল্যান্ড অনেক এগিয়ে।

সংখ্যায় তুলনা: ইন্দোনেশিয়া বনাম থাইল্যান্ড

  • ২৮ বিলিয়ন ডলার ইন্দোনেশিয়ার জিডিপির প্রায় ২.৫%। তুলনায়, থাইল্যান্ডের পুরো ইস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর প্রকল্পের মূল্য ৪৫ বিলিয়ন ডলার, তবে সেটা এক দশক ধরে ছড়ানো এবং শুধু ফিনান্স নয়, পুরো শিল্পখাত কভার করে
  • বালির জনসংখ্যা প্রায় ৪৪ লাখ। দুবাই যেভাবে DIFC-এর মাধ্যমে লাইফস্টাইল ও ফিনান্সের মিশ্রণ ঘটিয়েছিল, বালিতে সেই মডেলই অনুসরণ করার চেষ্টা হচ্ছে
  • ইন্দোনেশিয়ায় বিদেশিরা জমির ফ্রিহোল্ড মালিকানা (hak milik) পেতে পারেন না। তাদের জন্য আছে শুধু ব্যবহারের অধিকার (hak pakai, সর্বোচ্চ ৮০ বছর) এবং বিল্ডিং রাইট (hak guna bangunan)। থাইল্যান্ডে এর বিপরীতে বিদেশিরা কনডোমিনিয়াম সরাসরি ফ্রিহোল্ডে কিনতে পারেন, যা বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছেও অনেক বেশি নিরাপদ ও পরিচিত ব্যবস্থা
  • ব্যাংকক নিজেও বসে নেই। ফ্রেজার্স প্রপার্টি ও TCC গ্রুপের বিনিয়োগে ওয়ান ব্যাংকক প্রকল্প গড়ে উঠছে, যার মূল্য আনুমানিক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার, আর ফুকেটে প্রিমিয়াম প্রপার্টি সেগমেন্ট ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে
  • গত এক বছরে ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া ডলারের বিপরীতে প্রায় ৫% দুর্বল হয়েছে, যেখানে থাই বাত অনেক বেশি স্থিতিশীল থেকেছে, হার্ড কারেন্সিতে রিটার্ন হিসাব করা বিনিয়োগকারীদের জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
  • ব্যাংককে দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রতিষ্ঠিত BTS/MRT রেল নেটওয়ার্ক আছে, পাশাপাশি গভীর ব্যাংকিং অবকাঠামো। জাকার্তা প্রথম মেট্রো লাইন চালু করেছে মাত্র ২০১৯ সালে, আর বালিতে এখনো কোনো রেল ট্রানজিট সিস্টেমই নেই
  • দীর্ঘমেয়াদে ইন্দোনেশিয়ার জনসংখ্যাগত সুবিধা বিশাল, ২৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষ, যেখানে থাইল্যান্ডের জনসংখ্যা ৭ কোটি ২০ লাখ
  • ব্যাংকক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ফুকেটের লাক্সারি প্রপার্টি মার্কেট শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা আছে, বিশেষ করে বাং তাও, লাগুনা, লায়ান, কামালা এবং চের্ং তালাইয়ের মতো পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় জমির দাম বাড়ার কারণে, আর ব্র্যান্ডেড ভিলাগুলো সচ্ছল আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে কনডোর তুলনায় বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে

থাইল্যান্ডের প্রপার্টিতে বিনিয়োগ কি এখনো লাভজনক

ব্যাংককের কনডোমিনিয়ামে গড় ভাড়া আয় বছরে ৫-৭%, আর ফুকেটে পিক সিজনে তা ৮-১০% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। হোটেল অকুপেন্সি রেটও (STR ডেটা অনুযায়ী) ৭৫-৮০%-এর কাছাকাছি, যা এই অঞ্চলে বেশ শক্তিশালী একটা পারফরম্যান্স। ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডে পর্যটক এসেছেন ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি (TAT সূত্র), যা প্রপার্টি বাজারের চাহিদা ধরে রাখতে সরাসরি সাহায্য করছে।

কেন থাইল্যান্ড এখনো নিরাপদ পছন্দ

ইন্দোনেশিয়ার ফিনান্সিয়াল হাব প্রকল্প এখনো পরিকল্পনার স্তরে। সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতিতেও পুরো ব্যবস্থা কার্যকর হতে ৭-১০ বছর লাগতে পারে। এর মধ্যে জমির আইন জটিল, নিবন্ধন প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ, আর আদালতের গতি ধীর, ফলে বড় ফান্ডগুলো নিশ্চয়তা ছাড়া পুঁজি ঢালতে রাজি নয়। এই সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর-ছাড়ের প্রতিশ্রুতি মূলত কাগজেই থেকে যাবে।

থাইল্যান্ডের প্রপার্টি মার্কেট এর সম্পূর্ণ বিপরীত, পরিণত, তরল এবং সবার কাছে সুপরিচিত একটা সিস্টেম, যেখানে নিয়ম স্পষ্ট এবং লেনদেন প্রক্রিয়া দশকের অভিজ্ঞতায় পরীক্ষিত। বাংলাদেশ থেকে যারা দূর থেকে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য এই স্বচ্ছতা সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা।

কোন এলাকাগুলো আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা সহ্য করার মতো শক্তিশালী

সীমিত সরবরাহের প্রিমিয়াম এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি টেকসই। ব্যাংককে সুখুমভিট এবং সিলম, ফুকেটে বাং তাও এবং লাগুনা, আর কোহ সামুইয়ে বোফুট। এই এলাকাগুলো এমন ক্রেতাদের আকর্ষণ করে যাদের কাছে ইন্দোনেশিয়া কোনো বাস্তব বিকল্প নয়, কারণ মালিকানার আইনি কাঠামো এবং জীবনযাত্রার মানে বিশাল পার্থক্য রয়ে গেছে।

উৎস: নিক্কেই এশিয়া

ইন্দোনেশিয়ার ২৮ বিলিয়ন ডলারের এই পরিকল্পনা উচ্চাভিলাষী এবং নজর রাখার মতো একটা বিষয়। কিন্তু একটা মেগা-প্রজেক্ট ঘোষণা করা আর সত্যিকারের পুঁজি প্রবাহিত হওয়ার মধ্যে যে ফারাক থাকে, তা পূরণ হয় আইন, প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা দিয়ে, যা থাইল্যান্ড অনেক আগেই অর্জন করেছে। আজ যারা বিনিয়োগ করছেন তাদের জন্য রিটার্ন, আইনি সুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান, এই তিনটি মাপকাঠিতেই থাইল্যান্ড এখনও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পছন্দ।

থাইল্যান্ডে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন? থাইল্যান্ড সম্পত্তির বিশেষজ্ঞ দল আপনাকে উপযুক্ত প্রপার্টি খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।

সাধারণ প্রশ্ন

ইন্দোনেশিয়ার নতুন ফিনান্সিয়াল হাব কি থাইল্যান্ডের প্রপার্টি বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে নয়। ইন্দোনেশিয়ার এই প্রকল্প এখনো পরিকল্পনার স্তরে আছে এবং পুরোপুরি কার্যকর হতে ৭-১০ বছর লাগতে পারে। থাইল্যান্ডের প্রপার্টি মার্কেট এখন যেভাবে চলছে, তা পরিণত ও তরল, তাই এখন যারা বিনিয়োগ করছেন তাদের ভিত্তি এখনও শক্তিশালী।

থাইল্যান্ড আর ইন্দোনেশিয়ায় বিদেশিদের প্রপার্টি মালিকানার আইনে কী পার্থক্য?

থাইল্যান্ডে বিদেশিরা কনডোমিনিয়াম সরাসরি ফ্রিহোল্ড মালিকানায় কিনতে পারেন। ইন্দোনেশিয়ায় বিদেশিরা জমির ফ্রিহোল্ড (hak milik) পেতে পারেন না, তাদের জন্য আছে শুধু ব্যবহারের অধিকার (hak pakai, সর্বোচ্চ ৮০ বছর) বা বিল্ডিং রাইট (hak guna bangunan)।

ফুকেট বা ব্যাংককের কনডোতে বিনিয়োগ করলে কেমন ভাড়া আয় আশা করা যায়?

ব্যাংককের কনডোমিনিয়ামে গড় ভাড়া আয় বছরে ৫-৭%, আর ফুকেটে পিক সিজনে তা ৮-১০% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। হোটেল অকুপেন্সি রেট প্রায় ৭৫-৮০% থাকায় ভাড়ার চাহিদাও ভালো থাকে।

এখন কি থাইল্যান্ড না ইন্দোনেশিয়া, কোথায় বিনিয়োগ করা ভালো?

বর্তমানে থাইল্যান্ড অনেক বেশি নিরাপদ, কারণ এখানকার বাজার সচল, নিয়ম স্পষ্ট এবং রিটার্ন অনুমানযোগ্য। ইন্দোনেশিয়া এখনো ভবিষ্যতের একটা বাজি, যেখানে অনিশ্চয়তা অনেক বেশি। ভালো কৌশল হলো এখনই থাইল্যান্ডে একটা মূল পোর্টফোলিও গড়ে তোলা, এবং ইন্দোনেশিয়ার আইনি কাঠামো পরীক্ষিত হওয়ার পর সেই বাজার নতুন করে বিবেচনা করা।